1. abir.sayeed@gmail.com : abir :
  2. xerosmac@gmail.com : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. zakariashipon1993@gmail.com : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. sifat.sikder13@gmail.com : Sifat Sikder : Sifat Sikder
September 26, 2021, 7:43 pm

চাঁদাবাজ আজিজুলে অতিষ্ঠ শ্রমিকেরা, মিলছে না সমাধান

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, May 26, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতায় বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারো নতুন করে প্যাডেল চালিত রিক্সা ও অটো রিক্সার প্লেট বানিজ্য ও মাসিক চাঁদা আদায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আজিজুল ওরফে অটো আজিজ ও তার সহকারী চাঁদাবাজ চক্র ।

তবে অতীতের মতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে লাইনম্যান দিয়ে চাঁদা আদায়ের কাজটি করছেনা।চাঁদা আদায়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।রিক্সার গ্যারেজ থেকেই নিয়মিত ভাবে সাপ্তাহিক বা মাসীক হারে রিক্সা প্রতি চাঁদা আদায় করছে।প্রতিটি রিক্সার গ্যারেজ থেকেই নির্দিষ্ট একটি দিনে চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে বলে জানা যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে,চাঁদা আদায় করে আজিজ ওরফে অটো আজিজ সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাদের থেকে শুরু করে প্রতিটি মহল্লার হোমড়া- চোমড়া,পাতি নেতা সহ প্রশাসনের দূর্নীতিবাজ কর্তাদের নিজ হাতে উত্তোলনকৃত চাঁদার অর্থ প্রদান করে থাকে।

জানা যায়,প্লেট প্রতি নেয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আর ৩০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে মাসিক চাদাঁ।

কেউ প্লেট নিতে না চাইলে বা চাঁদা প্রদানে অস্বীকার করলে তার রিকশা নিয়ে আটকিয়ে রাখছে নতুবা রিক্সার সিট জোর পূর্বক রেখে দেওয়া হচ্ছে।পরবর্তীতে তা ছাড়িয়ে আনতে গেলে গুনতে হয় অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

চাঁদাবাজীর অভিযোগে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে অতিতের মতো চাঁদাবাজীতে সক্রিয় হয়ে পরে এই শীর্ষস্থানীয় চাঁদাবাজ।।
তথ্য মতে, এক সময় প্রকাশ্যে এই চাঁদাবাজ চক্র অটো রিক্সার প্লেট বানিজ্য বা চাঁদা আদায়ে সক্রিয় থাকলে ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতায় কৌশল পাল্টিয়ে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে চক্রটি তাদের নিজ নিজ অপকর্মে।

ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত রিক্সার গ্যারেজগুলোতে বসেই চলছে তাদের প্লেট বানিজ্যের পাশাপাশি চাঁদাবাজি। রিক্সার গ্যারেজ মালিকের মাধ্যমে সাপ্তাহিক, মাসিক চাঁদা আদায় সহ একই মাধ্যমে রিক্সার প্লেট ক্রয় করাতেও বাধ্য করা হয় রিক্সা,অটো রিক্সার মালিকদেরকে।

অন্যথায় অটো আজিজের চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা গ্যারেজে এসে অটো রিক্সার চাবি বা সিট খুলে নিয়ে চলে যায় আলিগঞ্জের অফিসে।

কখনো কখনো আটকে রাখা হয় রিক্সা বা অটো রিক্সা। সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনতে হলে প্লেটের মূল্য ছাড়া ও গুনতে হয় অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

জানা যায়, চাঁদা আদায়ে মাঠ পর্যায়ে সহায়তার জন্য রয়েছে অটো আজিজের রয়েছে বেতনভুক্ত শতাধিক সন্ত্রাসী। আজিজুলের নিকট থেকে প্লেট না কিনে কেউ ফতুল্লা এলাকায় রিক্সা,অটোরিকশা চালাতে পারেন না। আজিজুলের দেওয়া প্লেট থাকলে সেই রিক্সা বা অটোরিকশা চালককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কিছু বলেন না।

অন্যান্য পরিবহন চাঁদাবাজদের ব্যাপারে র‌্যাব সরব থাকলেও আজিজুলের ব্যাপারে তারাও চুপ। এ কারণে বাধ্য হয়েই নিজদের ইচ্ছেদের বিরুদ্বে আজিজুলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় প্লেট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ওই এলাকার ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালক ও মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লার পাগলা, কাশিপুর, বাংলাবাজার, মুসলিমনগর, ধর্মগঞ্জ, তল্লা, হাজীগঞ্জ, দেলপাড়া, শীবু মার্কেট,আলীগঞ্জ,লালপুর, তক্কারমাঠ-নন্দলালপুর এলাকায় অন্তত পাঁচ হাজার অটোরিক্সা রয়েছে।আর প্যাডেল চালিত রিক্সা রয়েছে প্রায় দুই হাজার।

শাহালম নামক এক অটোরিক্সা চালক জানায়, আজিজুল এক সময় পাইওনিয়ার নামক পোষাক তৈরীর কারখানায় তার সাথে কাজ করতো।সে সময় আলীগঞ্জের প্রভাবশালী এক শ্রমিক নেতার ছত্রছায়ায় চলে যায় আজিজুল।পরবর্তীতে শ্রমিক আন্দোলনের কবলে পরে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে আজিজুল শ্রমিক নেতার বদৌলতে বনে যায় পরিবহন সেক্টরের অটো রিক্সা আর রিক্সা সেক্টরের একক নিয়ন্ত্রণ কর্তা।আর তখন থেকেই শুরু হয় আজিজুলের চাদাঁবাজী।আজিজুল থেকে হয়ে অটো আজিজ।

নাম প্রকাশ করার না শর্তে ফতুল্লা রেল স্টেশন এলাকার এক গ্যারেজ মালিক জানান, প্রতিটি এলাকায় তার লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, গ্যারেজে গিয়ে মালিক-মহাজনদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে। তিনি আরো বলেন অতীতে যারা প্লেট নিয়েছিলেন তাদেরকে নতুনভাবে প্লেট নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র মতে, অতিতের মতো চালকদের নিকট থেকে লাইন খরচ অর্থাৎ যানজট নিরসন কর্মীদের নামে প্রকাশ্যে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। র‌্যাবের তৎপরতায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু র‌্যাব জেলার বিভিন্ন এলাকার পরিবহন চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করতে পারলেও আজিজুলের বিষয়ে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেন অটোচালকরা।

জানা যায়,অটো আজিজ ও তার সহোযোগিদের বিরুদ্বে চাঁদাবাজীর অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিক মামলা সহ বহু অভিযোগ রয়েছে।একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি।প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে স্ব- মহিমায় অবতীর্ন হয় অটো আজিজ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz