1. [email protected] : abir :
  2. [email protected] : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. [email protected] : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. [email protected] : Sifat Sikder : Sifat Sikder
October 23, 2021, 1:21 am

দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, February 24, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকারের (ইউপি চেয়ারম্যানের) মদদ ছাড়া কোনো এলাকাতেই ঘর বরাদ্দ করা হয়নি সরকারি প্রতিবেদন এমনটাই বলে, ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের দুর্যোগ সহনীয় ঘর, অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কালের কন্ঠের ধারাবাহিক প্রতিবেদন কি বলে…! যাদের সামান্য জমি আছে কিন্তু টেকসই গৃহ নেই, গৃহহীন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহহীন পরিবার, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই এমন পরিবার অথবা অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অনুকূলে অগ্রাধিকারমূলে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ১৮টি ঘর বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব ঘর বিতরণও করা হয়েছে। কিন্তু এতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ভাড়ারিয়া ইউনিয়নে দুইজন স্বচ্ছল ব্যক্তিই পেয়েছেন এমন দুটি ঘর। এ নিয়ে এলাকায় উত্তাপ সৃষ্টি হলে সরেজমিনে হাজিরে হয় আমাদের রিপোর্টার। একটি ঘর পেয়েছেন ভাড়ারিয়া মিয়াপাড়ার মঙ্গল আলীর ছেলে। একটি পেয়েছেন ওষুধ কোম্পানিতে চাকরিরত মনোয়ার হোসেন মনু। আরেকটি পেয়েছেন তার খালাতো বোন একই ইউনিয়নের রূপবতী গ্রামের সৌদি প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী জুলিয়া বেগম।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মনোয়ার হোসেন মনুর সাড়ে চার শতাংশ জমির বসতবাড়ি ইটের প্রাচীরে ঘেরা। এর মধ্যে রয়েছে দুই কক্ষ বিশিষ্ট বারান্দাসহ একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর ও একটি চৌ-চালা বড় আকারের টিনের ঘর। এরপরও সেখানে তাকে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে সরকারের প্রায় তিন লাখ টাকা বরাদ্দের একটি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ। তিনি সরকারের ডিজাইন পরিবর্তন করে টয়লেট ও রান্না ঘরে টিনের পরিবর্তে ছাদ দিয়েছেন। বসতবাড়ি ছাড়াও নিজের নামে রয়েছে জমি। এসময় তার স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, সরকারের করে দেয়া বিল্ডিং ভাড়া দেয় হবে। মনোয়ার হোসেন মনু বলেন, সরকার আমাকে বিল্ডিং দিয়েছে। ইচ্ছে করলে তারা এ বিল্ডিং ভেঙে নিয়ে যাক। আমার কোনো আপত্তি নাই।

অপরদিকে মনুর খালাতো বোন জুলিয়া বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। কথা হয় তার মা কুলসুম ও সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে জনি মোল্লার সঙ্গে। তারা জানান, জুলিয়া ১২ হাজার টাকা বেতনে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সৌদি প্রবাসী। মনুর মাধ্যমেই জুলিয়া ঘরটি পেয়েছেন। চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সুপারিশ করে ঘর পায়িয়ে দেওয়ার জন্য জুলিয়ার কাছ থেকে মনু টাকাও নিয়েছেন। কিন্তু কত টাকা নিয়েছেন তা কুলসুম বেগম বলেননি। তিনি (কুলসুম জুলিয়ার মা) অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের টুকরো কাঠ জোড়া দিয়ে ঘরটি নির্মাণ করে দিয়েছে। টিনও কম পড়েছে। সেটাও আমাদের কিনতে বলেছে। এখন আবার আমাদের কাছে ২০ বস্তা সিমেন্ট চেয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের অনেকের থাকার ঘর নেই। তাদের ভাগ্যে জুটছে না এসব ঘর। অথচ মনোয়ার হোসেনের মনুর বাড়িতে দুটি ঘর থাকার পরও কিভাবে সরকারি ঘরটি পেল কিছুই বোধগম্য নয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহ আলম মাধ্যমে স্থানীয় মনু ঘরটি পেয়েছে। মনু ও জুলিয়ার চেয়ে গরীব লোকও আছে এ ইউনিয়নে। তবে জুলিয়া ঘর পাওয়ার উপযোগী। এ নিয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে অনেকে সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস না পেলেও অর্থের বিনিময়ে কাজটি সম্পাদন হয়েছে বলে জানান।। কিন্তু এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, কার মাধ্যমে কাকে দুর্যোগসহনীয় ঘর দেওয়া হয়েছে আমি কিছুই জানি না। তবে শুনেছি মনু ও জুলিয়া ঘর পেয়েছেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর অভিযোগটি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সামিউল হক জানান, ঘর বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে যদি এলাকাবাসীর কথার সত্যতা পাওয়া যায় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কিন্তু সে ব্যবস্থা এখন অবধি গ্রহণ করা হয় নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz