1. abir.sayeed@gmail.com : abir :
  2. xerosmac@gmail.com : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. zakariashipon1993@gmail.com : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. sifat.sikder13@gmail.com : Sifat Sikder : Sifat Sikder
May 15, 2021, 4:05 am

প্র’বাসী’দের ক’ষ্ট কেউ বোঝে না, সবাই খোঁ’জে টাকা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, December 12, 2020

আমা’র আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুরা প্রায়ই অ’ভিযো’গ করে বলে তুমি বিমানে চড়ে প্র’বা’সে গিয়ে বে’ঈ’মান হয়ে গেছ। কতদিন হয়ে গেল কল দেও না। নাকি অনেক টাকার মা’লিক হয়েছ। টাকা চাইব এই ভ’য়ে কল দেও না? ভ’য়ের কিছু নেই ধা’র নেব না।
উত্তরে তাদের কিছু বলি না, বলতেও পারি না। কারণ তাদের বললেও বুঝবে না। আমি জানি তাদের অ’ভিযো’গ সত্য তাই নীরবে কথার তীরে বিদ্ধ হতে থাকি। পৃথিবীতে কথার তীরের মতো বি’ষা’ক্ত বুঝি কিছুই নেই। নিজেকে নিয়ে এতই ব্য’স্ত থাকি যে কারো সাথে কথা বলার সুযোগ হয় না। আমাদের ক’ষ্ট কেউ বোঝে না, সবাই খোঁ’জে টাকা।
রাতের শেষ প্র’হ’রে কোমলতা নেমে আছে পৃথিবীর বুকে। তখন পৃথিবীটা খুব শান্ত ও সুন্দর লাগে। চো’র, সাধু রাত-জাগা মানুষগুলো শেষ প্রহরে ঘু’মকে আ’লি’ঙ্গ’ন করে নেয়। এই সময়টায় থেমে যায় ম’দে’র বা’রগু’লোর উ’ল্লা’স ধ্ব’নি। মা’তা’লরা যে যেখানে পারে গ’ড়াগ’ড়ি করে নেয়। রাত জে’গে ম’য়লা’র স্তূ’ত থেকে খাবার অ’ন্বে’ষণকা’রী কু’কু’রগুলোও ক্লা’ন্তি’তে শু’য়ে পড়ে। প্রকৃতি ঘু’মন্ত নগরীর ওপর বিছিয়ে দেয়, এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের ওড়না।
আর আমি সেই কো’ম’লতা, নৈ”সর্গিক ও’ড়’না ভে’ঙে জে’গে উঠি, ঘুম ঘুম চোখে ছুটে চলি জীবিকার স’ন্ধানে। কোম্পানির গাড়ি অফিসের গেটে পৌঁছালেও ঘুম আমাকে ছাড়ে না। তাই যেখানে সুযোগ পাই, সেখানেই ঘুমিয়ে নেই খানিকটা সময়। অনেকে তো রাস্তার পাশে গাছতলায়ও ঘুমিয়ে পড়ে। ডিউটি সাড়ে সাতটায় কিন্তু কোম্পানির গাড়ি ছয়টার আগেই অফিসে এনে পৌঁছে দেয়। তাই সাতটা দশ মিনিট পর্যন্ত ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়ে নেই।
কাজের পূর্বে সুপারভাইজারের ব্রি’ফিং শেষ হলেই শুরু হয় সং’গ্রাম। এই সং’গ্রাম নিজে বেঁ’চে থাকা এবং পরিবারের সবার মুখে হাঁসি ফোঁটানোর সংগ্রাম। দুপুরের খাবার সে’তো কতদিন হয়ে গেল প্লেটে খাইনি। কোনো এক সময় তো সুন্দর নকশা করা প্লেট ছাড়া খেতেই পারতাম না। আর এখন একধরনের কাগজের উপর (মা’খান পেপার) খেয়ে নেই।
কিন্তু আফসোস কাগজের উপর থেকে ডা’ল’টা চু’মুক দিয়ে খেতে পারি না। অথচ কোনো এক সময় খাবার শেষে চু’মুক দিয়ে ডাল না খেলে আমা’র খাবার খেয়ে তৃ’প্তি’ই হত না।
খাবার শেষে আমা’র ব্রিফিং আবার কাজ এভাবেই চলে বিকেল অবধি। বিকেলে হালকা চা, কফি কিংবা একটা বিস্কুট খেয়ে জি’ড়ি’য়ে নেই। কখনো বাবার সঙ্গে কিংবা ভাইদের সাথে চলে কিছুটা আ’লাপচরিতা।আমাদের ডিউটি চলাকালীন সাধারণ কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নি’ষে’ধ। আমি মোবাইল বহন করতে পারলেও যত্রতত্র ব্যবহার করতে পারি না। কোম্পানির প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ব্যবহার করা দৃ’ষ্টিক’টূ। তাই মোবাইলটা সযত্নে পকে’টেই পড়ে থাকে।

দিনের কাজ স’মা’প্তি আবারও গেটের বাহিরে কোম্পানির পরিবহনের জন্য অ’পেক্ষা। হ’র্ন দিয়ে গাড়ির আগমন, হু’ড়াহু’ড়ি করে গাড়িতে উঠি। গাড়িতে বসে দম ব’ন্ধ হবার উপক্রম সহকর্মী আর আমা’র গায়ের ঘাম শুকিয়ে বিদঘুটে এক গ’ন্ধ বের হয়। এই গ’ন্ধ শুকতে শুকতেই বাসায় ফিরি।
প্রথম প্রথম ঘামের গ’ন্ধে ব’মি আসত, অ’স্ব’স্তি অনুভব করতাম। কিন্তু এখন অ’ভ্য’স্ত হয়ে গেছি। মানুষকে নাকি যে কোনো জায়গায় অনেকদিন রাখলে সে জায়গার মায়া জ’ন্মে যায়, তাই সে যে কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়। আচ্ছা ন’র’কেও যদি অনেকদিন রাখা হয় একটা সময় কি আমি সেখানে থাকতে অ’ভ্য’স্ত হয়ে যাব? সে জায়গার প্রতি মায়া জ’ন্মে যাবে?
বাসায় ফিরে দিনের ব্যবহৃত কাপড় ধৌ’ত করে গোসল করার পর রাত নয়টা বেজে যায়। আর তখন শুরু হয় রান্নার কাজ। রান্না শেষ করে খেতে খেতে রাত প্রায় এগারটা।
সারাদিন প্লান ছিল অনেকের সাথে কথা বলব কিন্তু খাবার পর বিছানায় গা এলিয়ে দিলেই ক্লা’ন্তি’তে চোখ দুটি ব’ন্ধ হয়ে আসে। কারো সাথে কথা হয় না, কারো কাছে নিজের ক’ষ্ট’গুলো শেয়ার করা হয় না।
এভাবেই চলছে দিন, মাস আর বছর। কিন্তু কাউকে এই ব্য’স্ততার কথা বোঝাতে পারি না। সবাই মনে করে আমি সারাদিন অফিসে বসে থাকি। নিজেকে অন্যের কাছে ব্যাখা করতে ইচ্ছে করে না। তাই কাউকে কিছু বলা হয় না। কিছু কিছু ক’ষ্ট থাক না একান্ত নিজের। প্র’বা’সীদের কিছু কিছু ক’ষ্ট একান্ত নিজের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz