1. [email protected] : abir :
  2. [email protected] : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. [email protected] : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. [email protected] : Sifat Sikder : Sifat Sikder
October 22, 2021, 4:08 pm

ফতুল্লার ত্রাস শামীম-শান্ত, আতঙ্কে এলাকাবাসী

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 1, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সদর উপজেলার ফতুল্লার পিলকুনী ও এর আশেপাশের এলাকায় দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী শামীম ও তার বাহিনী। হামলা, জখম, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, মাদক ব্যবসাসহ অনেক অভিযোগে অভিযুক্ত শামীম গড়ে তুলেছে বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী। বিতর্কিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন জুয়েলের প্রচ্ছন্ন মদদে ভাতিজা শামীম ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শামীম বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে আছে পিলকুনী, তক্কার মাঠসহ আশেপাশের এলাকার জনসাধারণ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে থাকে শামীম। নানান অপকর্ম সংগঠিত করতে বখাটে কিশোর-তরুণদের নিয়ে গড়ে তোলে নিজস্ব বাহিনী। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অল্প কদিনেই তার নামের সাথে জুড়ে যায় ‘সন্ত্রাসী’ তকমা। প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে অপরাধের রামরাজত্ব কায়েম করে শামীম।

এলাকাবাসী জানায়, শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। এর মধ্যে দাপার আল আমিনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, তক্কার মাঠের নাহিদ আলমের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী, অন্তসত্বা সেতুকে মারধর, বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট, শিয়াচরের আরিফুল ইসলাম ও মনির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম, শিয়াচরের রাসেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত ও তার ভাবী পারভীনকে শ্লীলতাহানি ও জখম, প্রবাসীর স্ত্রী, শিয়াচরের ইয়াসমিনকে কুপ্রস্তাব ও মারধরসহ পাঁচটি মামলা ও ২৫টিরও বেশি অভিযোগ রয়েছে।

২০১৭ সালের ২০ জুন রাত সাড়ে ৮টায় তক্কার মাঠ এলাকার এলাকার নাজমুল গামেন্টর্সেও সামনে চাঁদার দাবীতে শামীম বাহিনী এলাকার সোলায়মান মিয়ার পুত্র রাজুকে পিটিয়ে হত্যার হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে রাজুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি নেয়। এসময় শামীম বাহিনী রাজুর পকেটে থাকা নগদ টাকা ও একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এই ঘটনার এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টায় দুই লাখ টাকা চাঁদার দাবীতে ব্যবসায়ী সোহেল গাজী গতিরোধ করে পিটিয়ে আহত করে প্রায় অর্ধশাক্ষাধীক টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শামীমসহ শান্ত, বিল্লাল,মামুন,মহসিন,সালঅম,বাবলুসহ প্রায় ১৫জনকে অভিযুক্ত করে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের হয়।

২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর ফতুল্লায় শিক্ষানবিশ সাংবাদিক নাজিম উল ইসলাম পরাণকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় কথিত ছাত্রলীগ ক্যাডার শামীম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় ফতুল্লা মডেল থানায় (যার নং ৮৭)। আহত শিক্ষানবিশ সাংবাদিক পরানের মামা অনলাইন নিউজ পোর্টাল নারায়নগঞ্জ নিউজ ডট কমের সম্পাদক, প্রকাশক এবং ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য মনির হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। এতে কথিত ছাত্রলীগ ক্যাডার শামীম ছাড়াও তার সহযোগীদের মধ্যে আসামী হিসেবে রয়েছে চাঁন মিয়ার ছেলে মুন্না, সামাদ ড্রাইভারের ছেলে সিফাত, নান্নু মিয়ার ছেলে বাপ্পি, আনোয়ার হোসেনের ছেলে স্মরণ এবং শাওন।

একটি তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে একটি বেসরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের শিক্ষানবিশ সাংবাদিক নাজিম উল ইসলাম পরানের উপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এসময় হামলা কারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরানের শরীরের বিভিন্ন অংশ কুপিঁয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে এলাকাবাসী আহত অবস্হায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে নাঃগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।এঘটনায় আহত পরানের মামা মনির হোসেন বাদী হয়ে হামলা কারী শামীম ও তার ৫ সহযোগীকে আসামী করে ১৪৩,৩২৩,৩২৬,৩০৭,৩৭৯,৫০৬ দন্ড বিঃ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মাদক ব্যবসাও করে থাকে শামীম ও তার বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার কারণে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা শামীমকে কয়েকবার ডেকে নিয়ে শাসিয়ে দেয়। কিন্তু এরপরও থেমে থাকেনি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধান বলছে, ময়লার গাড়ি চালক ‘বিল্লালের মা’ নামে পরিচিত এক নারী গাজা ব্যবসা করছে শামীমের প্রভাবে। শামীমের সেল্টারে মাদক ব্যবসা করছে সুজন, আল-আমিন, কাইল্লা রাসেদ, ইয়াবা জহির ও গাজা ইব্রাহিম। এক ইয়াবা বিক্রেতা নারীর কাছ থেকেও মাসে ৪ বারে শামীম নিচ্ছে ৬-৮ হাজার টাকা।

এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলম, আবু নছর ও রানার সহযােগীতায় মাসে ৮ থেকে ১০ দিন জুয়ার আসর বসান শামীম। সেখান থেকেও আসে তার মােটা অঙ্কের টাকা। এছাড়া জোড়া মসজিদ, ব্যাংকলনী, পিলকুনী,পেয়ারাবাগান, তক্কারমাঠ, পিটিআই ভবন, বরাফকল,রােড এলাকায় ছিনতাইকারী কিশাের গ্যাং প্রধান ইয়াবা ব্যবসায়ী পার্থ,লাভলু জহির, ইব্রাহিম, অয়ন, হলিদ, তারেক, বরিশাইল্লা আল আমিনসহ বেশ কিছু কিশাের ও তরুণকে শেল্টার দেন এই শামীম।

তক্কার মাঠ এলাকার এমান আলীর ছেলে শামীমের সাথে ২০১৬ সালে নিহত মাদ্রাসার ছাত্র আবু নাঈমের হত্যাকারী জনি ও নূরুল আমিন হৃদয়ের একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সংবাদে প্রকাশিত শামীমের ছবিতে একপাশে ব্ল্যাক মেইলিং চক্রের হোতা এবং নাঈম হোতার মুল পরিকল্পনা কারী জনি ও এবং শামীমের অপর পাশে নূরুল আমিন হৃদয়কে দেখা যায়। এই ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পরে ফতুল্লার তক্কারমাঠ, শিহাচর, পিলকুনী, দাপা ইদ্রাকপুর এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় থানার নন্দলালপুর কাকলী ডাইংয়ের পিছনে সন্ত্রাসী জনি, নূরুল আমিন হৃদয় বাহিনীর হাতে খুন হয় আলীগঞ্জ মাদ্রাসার ছাত্র মোঃ আবু নাঈম। পুলিশ তদন্তে নাঈম হত্যা মামলার আসামীদের শনাক্ত করেন এবং মূল হোতা জনিসহ প্রায় সকল হত্যাকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একপর্যায়ে ধৃত আসামী জনি, নূরুল আমিন হৃদয় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।

২০১৭ সালের ১০ মার্চ তুচ্ছ ঘটনায় শামীম, শান্ত, চঞ্চল, বিল্লাল, জাহিদুল, মাসুম, দরবার হোসেন, রায়হান, মিরাজ, সিজানসহ ৫-৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে তক্কার মাঠ এলাকায় মোতালেব (৪০), শাওন (১৮), ইমন (২০), সামসু ফকির (৭৫), ফরিদ (২৫) ও রনিকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় অন্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে প্রত্যেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

শামীম বাহিনীর নৃশংতার শিকার হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন জনৈক জাকির। তিনি পুলিশের প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগ করে মুঠোফোনে বলেন, ‘সেদিন শামীম-শান্ত বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে এসে বাড়ির সদস্যদের কুপিয়ে জখম ও বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আমি মামলা করলেও পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করছে না। তারা প্রকাশ্যেই ঘুরছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে একথা জানানো হলেও তিনি আসামিদের গ্রেফতার করছেন না। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি৷’

এছাড়া পিলকুনি ৫তলা এলাকার ব্যাংক কর্মকতা আসিফ ও তার পিতা জাকিরকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পাগলার রাজিব ও শামীম বাহিনী। এই ঘটনায় থানায় মামলাও দায়ের করা হয়। তবে এমন অসংখ্য অভিযোগ ও মামলা থাকার পরেও উপরের মহলের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে শামীম ও তার বাহিনী। জাতীয় গণমাধ্যম যুগান্তর, সমকাল, বাংল্কা ট্রিবিউনসহ জেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পত্রিকায় শামীম বাহিনীর অপকর্ম নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।।

সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুই কলেজছাত্রকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে শামীম ও তার বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, শামীম-শান্তর বাপ-চাচা জুয়েল, এজা, এমান, আয়নাল, আনোয়ারদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। তারা বিগত ২ যুগেরও বেশী সময় ধরে ফতুল্লার তক্কার মাঠসহ আশপাশের এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে আসছে। শামীমের চাচা আয়নাল বাড়িতে গাঁজা চাষের দায়ে গ্রেফতার হয়। বাপ-চাচাদের পথ ধরেই অপরাধ জগতে পা দিয়েছে সন্ত্রাসী শামীম-শান্ত। সম্প্রতি শামীম ও শান্ত তক্কার মাঠ এলাকায় কথিত যুবলীগ নেতা জুয়েলের রাজনৈতিক অফিসকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানে বসেই মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় অপর এশটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার কারনে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা শামীম-শান্তকে ডেকে নিয়ে শাসিয়ে দেয়। কিন্তু এরপরও থেমে নেই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। শামীম-শান্তর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে তারা একাধিকবার থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়। গত ১৫ জুন ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দুই সহযোগীসহ শামীমকে ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‍্যাব-৩। এর আগেও র‍্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয় সন্ত্রাসী শামীম।

এলাকাবাসী জানায়, শামীমের অনেক অপকর্মই জনসাধারণের সম্মুখে আসে না, কেননা প্রাণহানির ভয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই আইনের আশ্রয় নেয় না। আর এভাবে চলতে থাকলে সন্ত্রাসী শামীম বাহিনীর অত্যাচারে সাধারণ জনগণের পক্ষে পিলকুনী, তক্কার মাঠ ও আশেপাশের এলাকায় বসবাস করা দূরহ হয়ে পড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz