1. abir.sayeed@gmail.com : abir :
  2. xerosmac@gmail.com : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. zakariashipon1993@gmail.com : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. sifat.sikder13@gmail.com : Sifat Sikder : Sifat Sikder
September 27, 2021, 10:00 am

বাহারি নামের ভুয়া, অনুমোদনহীন সংগঠনের ব্যানারসর্বস্ব ভুয়া নেতায় সয়লাব কুতুবপুর

Reporter Name
  • Update Time : Friday, August 6, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দিনেদিনে বেড়ে চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যানারে নাম সর্বস্ব সংগঠন। এসব নাম সর্বস্ব সংগঠনের পেছনে ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার ছাড়াও বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামও ব্যবহার করছেন উদ্যোক্তারা।  এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করেও অনেক সংগঠন গড়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলের মতো অপরাধ ঘটাতে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘ক্লাবগুলোতেও’ নিয়মনীতি না মেনেই ব্যবহার করা হচ্ছে জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব নামসর্বস্ব সংগঠন গড়ে উঠছে মূলত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে। আর এই শাস্তিহীনতার সুযোগ নিয়ে এর অপব্যবহার করছে সুবিধাভোগী মহল। তারা বলছেন, এসব ভুঁইফোড় সংগঠন মূলত  লিফলেট, ভিজিটিং কার্ড, ব্যানার-ফেস্টুন-সর্বস্ব। বাস্তবে এসব সংগঠনের কোনও কাযক্রম যেমন নেই, তেমনি নেই কোনও কার্যালয়ও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুতুবপুরেও এইসব অনুমোদনহীন ভুয়া সংগঠনগুলোর হম্বিতম্বি চলছে জোরেশোরেই। চটকদার ব্যানার-ফেস্টুনে নিজেদের ‘নেতা’ জাহিরে তৎপর রয়েছেন কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি। অথচ প্যাডেই সীমাবদ্ধ এসব সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদেরই চেনে না কেউ। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব সংগঠনকে খোদ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই ‘টং দোকান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুতুবপুরে এসব ভুয়া সংগঠনের সাথে জড়িতদের প্রায় সবাই ‘কর্মীবিহীন নেতা’ হিসেবে পরিচিত।

ফরিদপুরে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ বয়স্ক লীগ!

লেজুড়বৃত্তি, তোষামোদী করে সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যেই তারা এসব ভুয়া সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করছেন। কুতুবপুরে যেসব ভুয়া, অনুমোদনহীন সংগঠনের খোঁজ পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু একাডেমী, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ছাত্র ফেডারেশন, আওয়ামী জনতা লীগ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, আওয়ামী প্রচার লীগ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী মটর চালক লীগ ইত্যাদি। এসব ভুয়া সংগঠনের এক বা একাধিক কমিটির সন্ধান পাওয়া যায় কুতুবপুরে। এছাড়া কুতুবপুরের একাধিক চিহ্নিত মাদকসেবী, ইয়াবা আসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যুর নিজ নামে গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘সংসদে’ জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির যথেচ্ছ ব্যবহার দেখা যায়। মূলত এসব ছবি ব্যবহার করে সেসব কার্যালয়ে মাদক বিক্রি, মাদক সেবন, চাঁদাবাজি চলে বলে জানা যায়।

সূত্র বলছে, এসব ভুয়া সংগঠনের তথাকথিত নেতাদের আত্মপ্রচারেই মগ্ন থাকতে দেখা যায় বেশি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতাদের সাথে যেকোনো উপায়ে ছবি তোলার টার্গেট থাকে তাদের। পরবর্তীতে সেই ছবিকে সম্বল করে নানা অপকর্ম করতে দেখা যায় তাদের। একাধিক সূত্রমতে, এসব সংগঠনের স্থানীয় কার্যালয় তো দূরের কথা, অধিকাংশেরই কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই। দু-একটি সংগঠন দোকান ভাড়া নিয়ে সেটিকে কেন্দ্রীয় অফিস বলে পরিচিতি দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছোসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ ও মৎস্যজীবি লীগ। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে রয়েছে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ। এর বাহিরে কোনো সংগঠনের ভিত্তি নেই।

শিশু কিশোর লীগ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি কয়েকটি অনুষ্ঠানে ভুঁইফোড় এসব সংগঠন ও নেতাদের ‘মৌসুমি চাঁদাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় বলেন, ‘সবচেয়ে ব্যথিত হই বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে চিহ্নিত চাঁদাবাজ-ধান্দাবাজ, টাউট-বাটপারদের ছবি দেখলে। বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে এসব ভূমি দখলকারী ও লুটপাটে জড়িতদের ছবি আর দেখতে চাই না। নেতাকর্মীদের বলব, এগুলো ছিঁড়ে ফেলুন।’
ভুঁইফোড় সংগঠনে সয়লাব আওয়ামী লীগ | 486558

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এ নিয়ে বহু লেখালেখি হলেও কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে কিছু বলতেও চাই না।’ আওয়ামী লীগের এ দুই নেতার উচ্চারণ অরণ্যে রোদন মাত্র। যেন কারও কিছু করার নেই।

প্রিয় | ইন্টারনেট লাইফ

সম্প্রতি ভুঁইফোড় এসব সংগঠনের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। অনুসন্ধানে এ ধরনের শতাধিক সংগঠনের অপতৎপরতা দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই এসব সংগঠনের একাধিক অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সাইডলাইনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাসহ দল সমর্থক কিছু ব্যবসায়ী নিয়মিত হাজির হচ্ছেন। মিডিয়া কাভারেজ প্রত্যাশী এসব ব্যক্তি যেমন অর্থের বিনিময়ে কর্মসূচিগুলোতে প্রধান কিংবা বিশেষ অতিথি হচ্ছেন, তাদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিও চলছে। ‘পদক’ কিংবা ‘সংবর্ধনা’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উঠতি কিছু নেতা ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও ‘পদক বাণিজ্যে’ লিপ্ত কয়েকটি সংগঠন।

জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসহ বিভিন্ন স্থানে এসব সংগঠনের মানববন্ধন, আলোচনা অনুষ্ঠানে অনেক সময়ই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নিতে দেখা যায়। আবার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে এসব সংগঠন নিজেদের ব্যানার নিয়ে হাজির হয়। বিভিন্ন ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফটোসেশন করে আবার অনেক সময় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে পোস্টারে, ফেসবুকে প্রচারণা চালাতেও দেখা যায় কোন কোন সংগঠনের নেতাকে।

ভুঁইফোড় সংগঠন নেতাদের অনেকে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে কর্মসূচির নামে চাঁদাবাজির পাশাপাশি টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এখন ওপেন সিক্রেট। কর্মসূচির আমন্ত্রণপত্রে মন্ত্রী কিংবা নেতার নাম ছাপিয়ে দাবি করা হচ্ছে চাঁদা। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কোনো নেতার নাম জুড়ে দিয়ে সহজে চাঁদা আদায়ও করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz