1. abir.sayeed@gmail.com : abir :
  2. xerosmac@gmail.com : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. zakariashipon1993@gmail.com : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. sifat.sikder13@gmail.com : Sifat Sikder : Sifat Sikder
September 28, 2021, 4:57 pm

ভাই হত্যার বিচার ও জমি পুনরুদ্ধারে অসহায় বৃদ্ধের আকুতি (ভিডিওসহ)

Reporter Name
  • Update Time : Friday, July 23, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একমাত্র ভাই সবুজ হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সদর উপজেলার ফতুল্লা স্টেশন এলাকার বৃদ্ধ মিজানুর রহমান সরদার । সম্পত্তি আত্মসাৎ ও প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধতেই সবুজকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করেছে তার স্ত্রী আইভী আক্তার নাজমা, এমনটিই অভিযোগ বৃদ্ধ মিজানুরের। আর সবুজ মারা যাওয়ার মাত্র নয় দিনের মাথায়ই পরিকল্পনামাফিক প্রেমিককে বিয়ে করেন নাজমা। শুধু তাই নয়, সবুজের মৃত্যুর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই জাল দলিল তৈরি করে সবুজের মালিকানাধীন কারখানা ‘সবুজ মেটাল’ দখলে নেন নাজমা। আর এ কাজে তিনি ফতুল্লার প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ মিজানুরের।

সূত্রমতে, মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মরহুম মোঃ আলি সর্দার ও মরহুম আলো বেগমের পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান সরদার ও মোঃ সবুজ সরদার। শৈশবেই বাবা-মা হারানো সবুজকে বড় করে তোলেন মিজানুর রহমান। ঢাকার জুরাইনে বড় হয়ে ওঠা মিজান- সবুজ একপর্যায়ে ‘সবুজ মেটাল’ নামের একটি কারখানা স্থাপন করেন ফতুল্লার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। একমাত্র ছোট ভাইকে বিয়েও করান মিজানুর। পাত্রী ফতুল্লার একই এলাকার আইভী আক্তার নাজমা। তবে বিয়ের পর থেকেই সংসারে বিভিন্ন বিষয়ে কলহ দেখা দেয়। সবুজের যাবতীয় সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেও মরিয়া হয়ে ওঠেন নাজমা। এসময় নাজমার অন্যত্র প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে চলে আসে।  একপর্যায়ে সবুজকে ‘অসুস্থ’ আখ্যা দিয়ে তাকে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করান নাজমা। আর এরপর থেকেই নাজমার পরিকল্পনা অনুযায়ীই চলতে থাকে সব। ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল সম্পূর্ণ বাকশক্তিহীন অবস্থায় ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি হন সবুজ সরদার। একই বছরের ৩০ এপ্রিল তিনি মারা যান।

নাজমার কর্মকাণ্ড ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সবুজের পরিবারের অনেকেই নিশ্চিত হন যে, সবুজ মারা যাওয়ার নেপথ্যে নাজমার ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই আশঙ্কা আরো ভিত পেতে বেশি সময় নেয়নি। কেননা, সবুজ মারা যাওয়ার মাত্র নয় দিনের মাথায়ই সবুজের পরিবারের কাউকে না জানিয়েই এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন নাজমা। সূত্র জানায়, সবুজ জীবিতবস্থায় ‘সবুজ মেটাল’ এর যাবতীয় কার্যকলাপ দেখভাল করতেন তার বড় ভাই মিজানুর রহমান। কিন্তু সবুজ মারা যাওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায়ই নাজমা দাবি করেন, সবুজ হাসপাতালে থাকাবস্থায়ই তাকে (নাজমাকে) কারখানাসহ ওই পাঁচ শতাংশ জায়গা হেবা করে দিয়েছেন। এসময় নাজমা একটি দলিলও উপস্থাপন করেন, যাতে সবুজের আসল স্বাক্ষরের সাথে দলিলের স্বাক্ষরের নিকটতম কোনো মিল নেই বলে দাবি মিজানুরের। শুধু তাই নয়, ওই দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে সবুজ-নাজমা দম্পতির পালিত কন্যা, তৎকালীন সময়ে অপ্রাপ্তবয়স্কা মেয়ের।

এ ব্যাপারে সবুজের একমাত্র ভাই মোঃ মিজানুর রহমান সরদার বলেন, ‘শৈশবে আমাদের বাবা-মা মারা যান। ছোট ভাই সবুজকে নিজের সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছি। তার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি। একপর্যায়ে দুই ভাই মিলে ফতুল্লা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ‘সবুজ মেটাল’ নামে একটি কারখানা স্থাপন করি। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিলো, কিন্তু সবুজ নাজমাকে বিয়ে করার পর থেকেই বাঁধে বিপত্তি। আমাদের কারখানা ও জায়গার প্রতি নাজমার লোভের বিষয়টি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে। সাংসারিক জীবনেও সবুজ অসুখী ছিল, কিন্তু শুধু লোকলজ্জার ভয়ে সবুজ অনেককিছুই মুখ বুজে সহ্য করে গেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবুজ মারা যাওয়ার পেছনে নাজমাই মুল দায়ী। সবুজের মৃত্যুর মাত্র নয় দিনের মাথায়ই নাজমা তার প্রেমিককে বিয়ে করে। আমাদের কাউকে না জানিয়ে তার এমন কাণ্ড লজ্জাজনক। আর তিন মাসের মাথায় নাজমা প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতা ব্যবহার করে একটী জাল দলিলের মাধ্যমে আমাকে কারখানা থেকে উচ্ছেদ করে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘আমি দরিদ্র মানুষ, অন্যদিকে নাজমার সাথে ফতুল্লার প্রভাবশালী মহলের সুসম্পর্ক রয়েছে। ভাই হত্যার বিচার চেয়ে ও ভাইয়ের শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ফল পাচ্ছি না। বরং নাজমা আমাকে প্রতিনিয়ত বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি জায়াগার ধারেকাছে গেলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। ভাই হত্যার কষ্ট বুকে চেপে আমি এখন রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু বয়সের কারণে ঠিকঠাক রিকশাও চালাতে পারি না। প্রায় দুই বছর আগে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাই। অনেকেই ভেবেছিলেন যে আমি বাঁচবো না। কিন্তু আল্লাহ তাআলার অশেষ দয়ায় বেঁচে আছি।’

মিজান জানান, সবুজের আসল দলিল নাজমা লুকিয়ে রেখেছেন। কারখানাসহ সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলাও করেছেন মিজানুর। তার আশা, নিজের মৃত্যুর আগে যেন সবুজ হত্যার যথাযথ রহস্য উদ্ঘানপূর্বক দোষী ব্যক্তি শাস্তি পান, সেইসাথে সবুজের সম্পত্তির মালিকানা প্রকৃত উত্তরাধিকারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz