1. [email protected] : abir :
  2. [email protected] : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. [email protected] : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. [email protected] : Sifat Sikder : Sifat Sikder
October 23, 2021, 2:03 am

মশা রাজনীতি : ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, March 10, 2021

নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্ষা আসেনি এখনো, তবে এসেছে মশা। অবশ্য এটি অনুমেয়ই ছিল, এ বছর মশার যন্ত্রণা বাড়বে। গত বছরের মতো ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে কিনা, তা এখনো বোঝা না গেলেও ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীরা ঠিকই মুখোমুখি হচ্ছেন মশার। আর তা করতে গিয়ে কামান দাগাতে না পারলেও এলাহি আয়োজনের কমতি থাকছে না। তাতে মশা কতটা কমছে, সেটি বোঝা না গেলেও প্রার্থীতার ব্যাপারে কে কতটা সিরিয়াস, তা স্পষ্ট হচ্ছে ভালোভাবেই।

১০ মার্চ, ২০২১। বিকেল ৫টা। একজন মেম্বার পদপ্রার্থীকে দেখা যাচ্ছে কুতুবপুরের নিজ ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তায় মশার ওষুধ ছিটাচ্ছেন। পেছনে তার জনা পঞ্চাশেক লোক, যাদের অধিকাংশই মশার ওষুধ নাকে-মুখে যাওয়ার ব্যাপারে একেবারেই উদ্বিগ্ন নয়। তারা রীতিমতো প্রার্থীর ব্যানার নিয়ে শোডাউনে ব্যস্ত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মশারাও ওই ওয়ার্ডের ভোটার। তাই প্রার্থীর ব্যানার দেখিয়েই মশাগুলো বিতাড়িত করতে হবে।

প্রার্থী যেন আরো এক কাঠি সরেস। কামান দাগাতে না পারলেও নিজেই ফগার মেশিন হাতে নিয়ে নেমে পড়েছেন রাস্তায়। যেন ‘সারাবছর তিনি মশাই মারেন।’ তবে ওষুধ ছিটানোর চেয়ে সবাইকে নির্বাচনী সালাম জানাতেই বেশি ব্যস্ত দেখা গেলো তাকে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকার লোকজন না সরিয়ে তাঁদের উপরেই প্রয়োগ করা হচ্ছে মশার ওষুধ। এ যেন ‘যত বেশি লোকে দেখবে, ততোই ভালো’ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এরকম দৃশ্যের দেখা মেলে এখন কুতুবপুরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই।

This image has an empty alt attribute; its file name is mm-1024x515.jpg


স্থানীয় একজন চিকিৎসক জানান, মশা মারতে ব্যবহৃত ওষুধ যথেষ্ট বিষাক্ত। মানবদেহের জন্য এটি ভীষণ ক্ষতিকারক। তাই ওষুধ প্রয়োগের পূর্বে অবশ্যই জনসাধারণকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু যেখানে প্রার্থীসহ তার লোকেরাই সেখানে অহেতুক ভিড় করছেন, তারা যে মানুষের উপরেই ওষুধ প্রয়োগ করবেন, তা অনুমেয়ই ছিল। হচ্ছেও তাই।

স্থানীয় একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জনবহুল-শ্রমঘন অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন। দূষণে, আবর্জনায়, ময়লার স্তূপে একেবারেই ত্রাহি অবস্থা এখানকার। কোথাও সমন্বিত পরিকল্পনার লেশমাত্র নেই। জলাশয়গুলো পরিস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় না, রাস্তাগুলোতে সড়কবাতি নেই। মিল-কারখানার বর্জ্য-দূষনে, ধুলাবালিতে এখানকার নাগরিক সুবিধা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গতবছরের অভিজ্ঞতায় এটি অনুমেয়ই ছিল যে, এবছর মশার পরিমাণ বাড়বে। কিন্তু সেটি প্রতিরোধে দায়িত্বশীলদের কোনো প্রকার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।’


মশক নিধন ঝিমিয়ে পড়েছে, মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ – শেয়ার বিজ


তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন আসন্ন, মশাও বেড়েছে। অথচ আগে থেকেই যদি মশার আবাসস্থল পরিকল্পিতভাবে বিনষ্টের উদ্যোগ নেওয়া হতো, তাহলে পরিস্থিতি এই অবধি আসতো না। প্রার্থীরা কিন্তু সুযোগ লুফে নিতে ভুল করেননি। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তারা মশা নিধনে নেমেছেন। সাথে ব্যাপক পরিমাণে থাকছে নিজেদের বলয়ের লোকজন। যেখানে জনসমাগম শুন্য করে তাদের মশার ওষুধ ছিটানোর কথা, সেখানে প্রার্থীরা স্রেফ প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন। অথচ একজন প্রশিক্ষিত কর্মীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সন্ধ্যার পরে উপযুক্ত স্থানে ওষুধ প্রয়োগ করতে দিলেই সবচেয়ে ভালো হতো। কেননা, এনকেফালাইটিস, ডেঙ্গু জ্বর, জিকা ভাইরাস, ম্যালেরিয়ার জীবানুবাহী মশারা সন্ধ্যার পর থেকেই উপদ্রুব শুরু করে। সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ না নিয়ে এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে ওষুধ ছিটানো, এমনকি জনসাধারণের উপরেই ওষুধ প্রয়োগ সুফল বয়ে আনবে না। এ যেন ‘ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল।

শীতের পর বেড়েছে মশার উৎপাত



একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করতে হবে সবার আগে। মশার উৎপত্তিস্থল নালা, খাল, জলাশয়, মজা পুকুর থেকে কচুরিপানাসহ অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করতে হবে অবিলম্বে। ফগার ও স্প্রে মেশিনের সাহায্যে মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিধনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এসব না করে বিচ্ছিন্নভাবে ওষুধ প্রয়োগ কার্যকরী সমাধান আসবে বলে আমার মনে হয় না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz