Breaking News
Home / মত-অমত / মাসুমের পদায়ন, অন্ধকারে আলোর ঝলক

মাসুমের পদায়ন, অন্ধকারে আলোর ঝলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বলা হয়ে থাকে গণমানুষের দল। বহু আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, লড়াই পেরিয়ে দলটি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন ত্যাগী,লড়াকু নেতাকর্মীরা। ত্যাগী নেতাকর্মীরাই যে দলের প্রাণ, একথা হাইকমান্ড থেকেও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় বারবার। রাজনীতির সূতিকাগারখ্যাত, প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জও এর ব্যতিক্রম নয়। বহুল আলোচিত ও নানা কারণে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় দলকে সুসংহত করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের সীমাহীন ত্যাগ চিরস্মরণীয়।

৭৫’ এর পটপরিবর্তনের পরে দেশে বঙ্গবন্ধু কিংবা আওয়ামী লীগের নামোচ্চারণে একপ্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আর সেই অন্যায় আচরণ থেকে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ থেকেই। কালের পরিক্রমায় এই জেলায় রাজনীতর হাল ধরেন বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান। উগ্র মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ ও বিএনপি-জামায়াতের ভ্রষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি সঙ্গী হিসেবে পান গোলাম সারোয়ার, মাকসুদ, মাহতাবউদ্দিন লাল, নিয়াজুল খানের মতো ত্যাগী নেতাদের। ৮০’ এর দশকের শেষদিক থেকে ৯০’ দশকের পুরোটা সময়জুড়ে শামীম ওসমানের সাথে ছায়ার মতো বিচরণ ছিল ‘চার খলিফা’ খ্যাত এই নেতাদের। ৯০ এর দশকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন মাহতাবউদ্দিন লালের ছোটভাই মোশারফ উদ্দিন আহমেদ মাসুম। বড় ভাইয়ের প্রেরণায় দলের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে থাকেন। জড়িয়ে পড়েন ছাত্ররাজনীতিতে।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে হত্যার হুমকি মাথায় নিয়ে তাঁদের নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে বাধ্য করা হয়, কিন্তু ঢাকার রাজপথ শামীম ওসমানের নামে প্রকম্পিত করে তুলতে তখনওভুল করেননি তাঁরা। দলের ওই চরম দুঃসময়েই যুবলীগ নেতা মাহতাবউদ্দিন লালের ছোটভাই মোশারফ উদ্দিন আহমেদ মাসুমের ভূমিকা ছিল স্মরণীয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ধারাবাহিক অত্যাচার, নির্যাতনের মুখেও তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে কাঁপিয়ে তোলেন রাজপথ। শামীম ওসমানের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে চালিয়ে যান আদর্শিক লড়াই।

ফলে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিকবার হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। মিথ্যা মামলা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সেসব মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগও করতে হয়েছে মাসের পর মাস। তবুও মুজিব আদর্শ থেকে পিছপা হননি তিনি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এক যুগ ধরে। রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান যুবলীগ নেতা মাহতাবউদ্দিন লাল। ভাইয়ের পথ ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন মোশারফ। ২০২১ সালে এসে মূল্যায়িত হলেন তিনি। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এসেছেন তিনি। তাঁর এই পদায়নে খুশির জোয়ার বইছে জেলাজুড়ে। দলের জন্য সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করা মাহতাবউদ্দিন লালের ছোটভাইয়ের মূল্যায়নের মাধ্যমে ফতুল্লা আওয়ামী লীগ নিজেই সম্মানিত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, দলে হাইব্রীড, অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। দুঃসময় এলে এরা যে মুখোশ পাল্টাবে, তা নিশ্চিত। তখন ত্যাগীদেরই দেখা যাবে সামনের সারিতে। তাই দেরিতে হলেও মোশারেফকে মূল্যায়নের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’

মোশারেফ নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনে। স্থানীয় মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি, পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা সমাজ উন্নয়ন পরিষদ নামক সেবামুলক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন সক্রিয়ভাবে।

About abir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *