1. abir.sayeed@gmail.com : abir :
  2. xerosmac@gmail.com : Mohin Soy : Mohin Soy
  3. zakariashipon1993@gmail.com : Narayanganj Tribune : Narayanganj Tribune
  4. sifat.sikder13@gmail.com : Sifat Sikder : Sifat Sikder
September 27, 2021, 12:08 am

শহরের নেতাদের ‘দাদাগিরি’ মানতে চাইছে না কুতুবপুর আওয়ামী লীগ

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 24, 2021

বিশেষ প্রতিবেদকঃ একসময় গোটা নারায়ণগঞ্জের মধ্যেই ফতুল্লার কুতুবপুর আওয়ামী লীগ ছিল ব্যাপক শক্তিশালী। জেলার অন্য যেকোনো ইউনিট এই ইউনিয়নের নেতাদের সমীহ করে চলতেন। স্থানীয় সাংসদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করতো কুতুবপুর। আন্দোলন-সংগ্রামেও প্রথম সারিতে থেকেছে এই ইউনিয়ন। প্রয়াত খন্দকার মনিরুজ্জামান, অমল বোস, শফিকুর রহমান মেছের, শহীদ পারভেজের মতো ডাকসাইটে নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থেকেছে সুবিশাল এই ইউনিয়ন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ অনেক বছর ধরেই কুতুবপুর ভুগছে যোগ্য আসনের অভাবে। ফলে কুতুবপুরের আওয়ামী লীগ নেতাদের মাথার উপর ছড়ি ঘোরাতে দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ শহরের নেতাদের।

রাজনীতিতে ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ বলতে একটি কথা আছে। যার আক্ষরিক বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভাগ করো ও শাসন করো।’ অর্থাৎ কোনো জনগোষ্ঠিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, তাদের ওপর কতৃত্ব স্থাপন করতে চাইলে তাদেরকে নানা ভাগে ভাগ করতে হবে। একতাহীন জনগোষ্ঠীর উপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে লাভবান হওয়ার এই পদ্ধতি রাজনীতিতে বেশ পুরোনো। একাধিক সূত্রমতে, ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়নে ঠিক সেই পদ্ধতিই প্রয়োগ হচ্ছে অনেক বছর ধরে। কুতুবপুরের প্রায় প্রত্যেক নেতাই শহর কিংবা পাশের ইউনিয়নগুলোর কোনো না কোনো নেতার লোক হয়ে আছেন। ফলে শহর কিংবা আশেপাশের ইউনিয়নের নেতারাও সুযোগের উপযুক্ত ব্যবহার করে তাদের ‘কমান্ডিং ভয়েস’ হয়ে আছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, কুতুবপুরের নেতারা নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে জানেন না। ‘চাঁদের যেমন নিজের কোনো আলো নেই, কুতুবপুরের নেতাদেরও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। ফলে আখেরে লাভবান হচ্ছে শহর ও আশেপাশের ইউনিয়নের নেতারা। অন্য সব ইউনিয়নের হিসেব আর কুতুবপুরের হিসেবেও যেন আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

একাধিক সূত্রমতে, কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের যেকোনো অনুষ্ঠানে কিংবা সামাজিক আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বহিরাগত নেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। তারাই ঠিক করে দেন, এই ইউনিয়নে তাদের প্রতিনিধি কে বা কারা! কিন্তু কুতুবপুরের নেতারা অন্য এলাকায় নিজেদের আধিপত্য দেখাতে পারেন না। এমনকি কুতুবপুরের যাবতীয় ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও শহরের বা পাশের ইউনিয়নের নেতাদের সুবিধামতো পরিচালিত হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রমতে, দীর্ঘ বছরের এই প্রতিবন্ধকতার এবার অবসান চাইছেন কুতুবপুর আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, বিরোধী দলে থাকাবস্থায় অত্র জেলায় সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন কুতুবপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আমাদের অনেক ভাই, সহযোদ্ধা শাহাদাৎবরণ করেছেন, পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। দল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায়, অথচ শহর কিংবা অন্য ইউনিয়নের নেতাদের কমান্ডে চলতে হয় আমাদের।  আমাদের মধ্যে বিভেদ জিইয়ে রেখে লাভবান হচ্ছে কিছু লোক। টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, অথচ কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান নেই। অন্য সব ইউনিয়নের চেয়ে এই ইউনিয়ন যেন একেবারেই আলাদা। এখানে সুযোগ পেয়ে বিএনপি’র লোকেরাও আমাদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে লিপ্ত।

পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার তাই সত্যিকার অর্থেই একতা চাইছেন কুতুবপুরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাঁদের সায় দিচ্ছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, কুতুবপুরের শহরের বা অন্য ইউনিয়নের নেতাদের আধিপত্য অনেকটাই খর্বের পথে। তবে শেষমেষ কুতুবপুরের নেতারা সফল হতে পারবেন কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 TV Site
Develper By ITSadik.Xyz