করোনায় ফতুল্লা পুলিশের মানবিকতার অনন্য নজির

157

শুধু অপরাধ দমন নয়, জনহিতকর-মানবিক কাজ করে ইতোমধ্যে নানা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফতুল্লা পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও নানা অভিযোগ যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়, সেখানে বহুমাত্রিক জনহিতকর কর্মকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করে ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন।

করোনা সংক্রমণের এই কঠিন সময়ে শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালনই নয়, মানবিক সব কর্মকান্ডের মাধ্যমে ফতুল্লা মডেল থানার কর্মরত পুলিশ সদস্যরা প্রমাণ করেছে পুলিশই জনগণের আসল বন্ধু। দুর্যোগময় এ সময়ে করোনা সংক্রমণ রোধে জনগণকে সচেতন করা, জীবাণুনাশক পানি ছিটানো চিকিৎসাবঞ্চিত রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা, অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, ওষুধ কিনে দেয়া, বাসার বাজার করে দেয়া, চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে আনা-নেয়া, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মনিটরিং করা, তাদের জন্য উপহারসামগ্রী পাঠানো, অঘোষিত লকডাউনের কারণে কর্মহীন ব্যক্তি-দরিদ্র-অসহায়-নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য ত্রাণ, মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে গভীর রাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো, সচেতনতা সৃষ্টি, দুস্থ ও অভিভাবকহীন রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ জনহিতকর কর্মকান্ডে যুক্ত ফতুল্লা মডেল থানার সুযোগ্য ওসি আসলাম হোসেনসহ তার থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। সেই পুলিশ সদস্যদের অভিবাদন জানিয়েছে ফতুল্লাবাসী। করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক পানি ছিটানো শুরু করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

ফতুল্লাকে পরিচ্ছন্ন করতে ব্লিচিং পাউডারসহ জীবাণুনাশক নানা উপকরণ মেশানো পানি ছিটানোর মাধ্যমে জীবনামুক্ত এলাকা নিশ্চিত করন উদ্যোগ। কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়-দুঃস্থ মানুষদের সাহায্যের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ওসি আসলাম হোসেন। নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মধ্যবিত্ত পরিবারের বাসায় প্রেরণের উদ্যোগ নেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন। করোনার প্রভাব পড়ার শুরু থেকে ওসি আসলাম হোসেনের উদ্যোগে দরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। যা কিনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে (১লা মে) শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদে ভিড় ঠেকাতে বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের বুকে প্ল্যাকার্ডে লেখা হয় : ‘আমরা পুলিশ, আমাদেরও পরিবার আছে’, ‘ধর্ম যার যার দেশ সবার’, ‘আমরা পুলিশ আমাদেরও সন্তান আছে, আপনাদের জন্য আজ আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।’ পুলিশ সদস্যরা এমন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মুসল্লিদের বুঝাতে সক্ষম হন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, পুলিশ জনগনের বন্ধু তবে অপরাধীদের শত্রু। জনসাধারনের সেবা নিশ্চিত করাই পুলিশের দায়িত্ব। ফতুল্লার বাসীর নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত রাখতে আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছি। ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় আমরা অবস্থান করে মানুষকে সচেতন করছি। এমনকি নি¤œবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারকে আমরা ত্রানসহ নানাবিধ সহযোগিতা করে আসছি। মধ্যবিত্তের মধ্যে অনেক পরিবার আছে তাদের কষ্টগুলো কারো সাথে শেয়ার করতে পারে না। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে গোঁপনে ঐ সকল মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর পাশে দাড়াচ্ছি। অনেকটা গোপনীয়তা বজায় রেখে সহযোগিতা প্রদান করে আসছি।ওসি আসলাম হোসেন এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে ফতুল্লাবাসীকে মেসেজ প্রদান করেন, যে সকল সাধারন মানুষ কিনা লোক লজ্জায় সহযোগিতা চাইতে পারছেন না তারা আমরা সাথে যোগাযোগ করুন। আমি আপনাদের খাবার পৌছে দিব। তিনি আরো বলেন, আমি আল্লাহকে খুঁিশ করার জন্য সাধারন মানুষের সেবা করে আসছি এবং তাদের পাশে থাকছি। ফতুল্লাবাসীকে আমার পরিবারের সদস্য মনে করি। আর পরিবারের সদস্যরা অনাহারে থাকবে তা ফতুল্লায় হবে না। আমি যদি খেতে পারি আমার ফতুল্লা বাসীর খাবারও আমি নিশ্চিত করব।

ওসি আসলাম বলেন, আমার ফতুল্লা পুলিশের সদস্যরা সাধারন মানুষের সেবা নিশ্চিতসহ করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত রাখার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে আসছে। ফতুল্লাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে জীবনের ঝুঁিক নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে আসছি আমরা। ইতিমধ্যে ফতুল্লার চার পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত্র হয়েছে। তবুও আমরা থেমে নেই। যতদিন ফতুল্লা মডেল থানায় র্করত থাকবো ঠিক সে মেহুর্ত পর্যন্ত ফতুল্লাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমরা ঈমানী দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here